
খুলনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি
‘দ্রুত অপসারণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি’ ভুক্তভোগীদের অভিযোগে তোলপাড়
একুশ রিপোর্টঃ
অভিযোগের ঝড় :
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান ডিসি ফুড তানভীর হোসেন ওএমএস কার্যক্রমে অনিয়ম, মিলারদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ, এবং খাদ্য বিতরণে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রতি ২০ টনের খাদ্য পরিবহন গাড়ি থেকে তিনি নিয়মিত ২০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেন। এছাড়া, ওএমএস পয়েন্ট, মিলার ও পরিবহন ঠিকাদারদের কাছ থেকেও অর্থ আদায় চলছে প্রকাশ্যে। বক্তারা বলেন, মহানগরের ৩১টি ওএমএস পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬২ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। অফিসের নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা হলেও তানভীর হোসেন প্রাত্যহিক দেরিতে অফিসে আসেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করে আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেন।
অতীতেও অভিযোগের ইতিহাস :
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, খুলনায় যোগদানের আগে অন্যান্য জেলাতেও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। টাঙ্গাইলে দায়িত্ব পালনকালে ১১ কোটি টাকার অডিট আপত্তির ঘটনায় তাকে বদলি করা হয়। কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলএসডিতে তার সময় বিপুল খাদ্যশস্য ঘাটতি ধরা পড়ে, যা পরে সিলগালা ভেঙে পূরণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। কক্সবাজারের দায়িত্বকালীন সময়েও মিলার ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়।
খুলনায় নতুন অনিয়মের অভিযোগ :
বক্তারা বলেন, খুলনায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ডিসি ফুড তানভীর হোসেন অভিজাত হোটেল সিটি ইন ও টাইগার গার্ডেনে অবস্থান করছেন। এ সময়ে ওএমএস ডিলারদের কাছ থেকে আটার ইনডেন্ট বাবদ দেড় হাজার ও চালের ডিও বাবদ পাঁচশত টাকা করে আদায় করেছেন।
এছাড়া পরিবহন ঠিকাদার ও শ্রমিকদের মেয়াদ বাড়ানোর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।বক্তাদের বক্তব্য :
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ডিলার খালেদ হোসেন, মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান মিরাজ, সাধারণ এলাকাবাসীর প্রতিনিধি মোহাম্মদ রানা, আসলাম এবং ছাত্র প্রতিনিধি মোঃ আব্দুর রহমান। তারা বলেন, “একজন জেলা পর্যায়ের খাদ্য কর্মকর্তার এমন দুর্নীতি ও অনিয়ম পুরো জেলার খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে। আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার অপসারণ চাই।”
স্মারকলিপি ও দাবি :
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে তারা বলেন, “তানভীর হোসেনকে খুলনা থেকে দ্রুত অপসারণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
কর্মকর্তার বক্তব্য :
অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তানভীর হোসেন বলেন, “সব অভিযোগই মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ডিলারশিপের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তারা বর্তমানে অনুমোদিত ডিলার নন।”তিনি আরও জানান, “আমি দায়িত্ব পালন করছি নিয়ম অনুযায়ী, আগামীকালও যদি মানববন্ধন হয় তবু আমি আইনি কাঠামোর ভেতরে কাজ চালিয়ে যাব।”
সংবাদ সংক্ষেপে :
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও কর্মকর্তার জবাবে খুলনায় জেলা খাদ্য দপ্তরের কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
Leave a Reply